পাইরেটস অব দ্যা হেড অফিস (২০২৫)
বিষয়: মানসিক স্বাস্থ্য / মনোরোগ
লেখক: ডা. পঞ্চানন আচার্য্য
প্রচ্ছদ: আল নোমান
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-682-005-8
মন নিয়ে মানুষের কৌতূহল সব-সময়ের। আর এই কৌতুহল মেটাতে গিয়েই মানুষ খোঁজ পেয়েছে মন নিয়ে অনেক তথ্যের, তৈরি করেছে অনেক-অনেকতত্ত্বের- সমন্বিতভাবে যাকে অভিহিত করা হয় 'মনস্তত্ত্ব' অভিধায়। এরই হাত ধরে মানুষের জানার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে 'মানসিক স্বাস্থ্য' নিয়ে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জটিলতা বা 'মানসিক রোগ' নিয়ে। বর্তমানের সচেতন মানুষ তাই 'মনস্তত্ত্ব', 'মানসিক স্বাস্থ্য' ও 'মানসিক রোগ' নিয়ে জানতে চায় আরও, বুঝতে চায় আরও। চায় নিজের জীবনের বিভিন্ন জটিলতার সমাধান করতে।
এই জানা-শোনা-বুঝার ক্ষেত্রটিতে আবার রয়েছে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্নতা। তাই আমেরিকা বা ইউরোপের একজন মানুষের মানসিক জটিলতার সাথে বাংলাদেশের একজন মানুষের মানসিক জটিলতার ধরনে পার্থক্য রয়েছে বা থাকবেই। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেও স্বীকৃত। মানুষও এই অঞ্চল ভেদে ভিন্নতাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এখন- মনস্তত্ত্ব, মানসিক স্বাস্থ্য বা মানসিক রোগ বিষয়ে ভিন্নতাটাকে আত্মস্থ করতে চায়। কিন্তু এসব বিষয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে এমন বইয়ের সংখ্যা একেবারেই সীমিত।
এক্ষেত্রে ডা. পঞ্চানন আচার্য্যের লেখা 'পাইরেটস অব দ্যা হেড অফিস'- বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি
বই। বিশেষতঃ জটিল জটিল একগাদা তত্ত্বের আলোচনা, কি করা উচিৎ এ জাতীয় উপদেশে ভারাক্রান্ত করা; অথবা রোগের লক্ষণ ও ঔষধের নাম
লেখার মতো প্রচলিত ধারা এড়িয়ে তিনি চেষ্টা করেছেন একজন সাধারণ মানুষের মনে প্রতিনিয়ত যে-সব প্রশ্ন জাগে, বা তাঁরা যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়ে থাকেন সেসব বিষয় নিয়ে উত্তর দিতে বা আলোচনা করতে। সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্যকে সহজ
সরল ভাষায় কিছুটা সাহিত্যের আদলে মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করার এই চেষ্টাটা অভিনব এবং প্রশংসনীয়। আশা করি, পাঠক-পাঠিকাদেরও পড়তে গিয়ে অনেক ভালোলাগবে এবং 'মানসিক স্বাস্থ্য', 'মানসিক রোগ', 'মনস্তত্ত্ব' ও আরও কিছু বিষয়ে একটি সহজ, স্বচ্ছ ধারণা গড়ে উঠবে।
..
ডা. পঞ্চানন আচার্য্য
এমবিবিএস, এমডি (সাইকিয়াট্রি), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগ বিদ্যাবিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম।
জন্ম: ১৯৮২ চট্টগ্রাম।
বাবা: অধ্যাপক হরিকৃষ্ণ আচার্য্য, প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, গণিত বিভাগ, বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ।
মা: অধ্যাপিকা রত্না শ্রী আচার্য্য, প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।
স্ত্রী: প্রকৌশলী এ্যানি আচার্য্য। বড় ছেলে শুভানন শৌর্য, ছোট মেয়ে: মহাশ্বেতা বিভা।
ডা. পঞ্চানন আচার্য্য পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নিউরোমেডিসিন, নেফ্রোলজি ও মেডিসিন বিভাগে দেড় বছর অবৈতনিক স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মতো প্রান্তিক কর্মস্থলে দুই বছরেরও বেশি সময় চাকরির পর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এমডি (সাইকিয়াট্রি) কোর্সে ভর্তি হন। পাঁচ বছরের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডি (সাইকিয়াট্রি) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মেডিক্যাল অফিসার, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; প্রভাষক (এনাটমি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ; আউটডোর মেডিক্যাল অফিসার (সাইকিয়াট্রি), সহকারী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি)-হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় গাইড লাইন, বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন প্রণীত ওসিডি গাইড লাইন, এবং বাংলাদেশের এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত 'Medical Humanities'-
বইটি রচনাতে সক্রিয় অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ সমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম ২০১৯ খ্রিঃ-তে 'স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং সেন্টার' চালু করার দাবিদার তিনি। রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার্থে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে চালু করেছেন ছয়টি বিশেষায়িত ক্লিনিক। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিদ্যালয়, টেলিভিশন চ্যানেল, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিতে নিয়মিত সভা-সেমিনার পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি জার্নালে তিনি এ পর্যন্ত ১৫ টির অধিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, সেই সাথে নিয়মিত পিয়ার রিভিউ করেন, এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ খ্রিঃ-এ তিনি 'অন্বেষণ' নামের নিজের একটি রিসার্চ গ্রুপ এবং ২০২৫ খ্রিঃ-এ নিজ বিভাগে 'সাইকিয়াট্রি রিসার্চসেল' গঠন করেন।
সাইকিয়াট্রি'- বিষয়টিকে তিনি তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের অংশ হিসেবে মনে করেন। তবে, ' শিক্ষকতার কাজটিও তিনি প্রচণ্ডভাবে উপভোগ করেন। আক্ষরিক অর্থেই তাঁর চৌদ্দপুরুষ ধরে বহমান শিক্ষকতার ধারাটি তিনি ধরে রাখতে চান একজন সত্যিকারের শিক্ষক হয়ে। এছাড়া তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন- কবিতা, গল্প এবং মানসিকস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক লেখা। এর বাইরে তাঁর সময় কাটে গানশোনা, বইপড়া, বেড়ানো, পরিবারের সাথে থাকা-র মাধ্যমে। এভাবেই, বিভিন্ন অহেতুক দ্বন্দ্ব-জটিলতা-হাঙ্গামাতে না জড়িয়ে, আপন মনে কাজ করতে করতে, নিজের মতো করে জীবনকে উপভোগ করে যেতে চান আজীবন।
লেখকের অন্যান্য বই: কাব্যগ্রন্থ: ভেসে চলা অন্তহীন।