কান্না-জমা চোখে (২০২৫)
বিষয়: কবিতা
লেখক: মাহাবুব টুটুল
প্রচ্ছদ: আমিনুল ইসলাম রানু
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-97981-8-7
প্রত্যেক কবির ব্যক্তিগত দুঃখের অপর নাম কবিতা। জীবন বইতে বইতে কবি যখন ভারে ক্লান্ত হয়ে যায়, কবিতার দুঃখ তখন কবিকে আঁকড়ে ধরে। তাই কবিতা, কবির ব্যক্তি জীবনের দুঃখের বর্ণনা কিংবা শোকগাথা। কবি মাহাবুব টুটুল'র কাব্যগ্রন্থের নামই বলে দেয়, কবি দুঃখের বাজার। না হলে কান্না জমা চোখে কেন লিখবেন? কবি মাহাবুব টুটুলের কবিতার পরতে পরতে পাঠক হারিয়ে যাবে জীবনের কাছে, যে জীবন শুধুই নিজে বয়ে নিয়ে যায় না, অন্যকেও বহন করতে বাধ্য করে।
'অনন্ত অবারিত পথের বাঁকে আকাশ দেখে দেখে বুঝেছি আমার চোখে তোমার অনেক দুঃখ'
কবিতা আসলে ব্যক্তিগত জীবনের বর্ণনার সাথে সাথে দুঃখের নিরন্তর কথনও এবং ভাবনার অবিন্যস্ত নির্যাস।
'চোখের পাপড়ির মতো কাছে থাকা প্রেয়সি গরম ভাতের মতো নরম ওষ্ঠ কাঁপিয়ে শরতের তেজে মেজাজ দেখিয়ে জানালো রংধনুগুলো শুধু আকাশের সম্পদ'
কান্না জমা চোখে বইয়ে যে-ক'টি কবিতা আমরা পাই, তার বেশিরভাগ কবিতাই কবির জীবন থেকে নেয়া। শব্দ দিয়ে কবিতাকে জটিল করেননি তিনি, চিত্রকল্পের বাহুল্যতা নেই, কিন্তু পাঠের পর ব্যক্তিগত বিবরণ রয়ে যায়। পাঠক কবিতা পড়ে নিজের সময় আর দুঃখকে মিলিয়ে নেয়া যায়। একজন কবির পাঠকের অন্তর জুড়ে ছাপ ফেলার চেয়ে বড় সার্থকতা আর নাই। পাঠক হিসেবে কান্না জমা চোখে আমাকে টেনেছে। জীবন ও বাস্তবতা, প্রেম ও বিরহ, সমানতালে এগিয়ে গেছে কাব্যগ্রন্থের পাতা জুড়ে। কবিতার নামকরণগুলোও চমৎকার। নামকরণের মধ্যে যেমন কবিতার সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে, তেমনি কবিতার ভাষাও প্রাঞ্জল ও সুখপাঠ্য। তার হাত ধরে বাংলা কবিতা আগামী দিনে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে-একথা বলা যায় নিঃসন্দেহে।
.
ইসলাম রফিক
সভাপতি, বগুড়া লেখক চক্র
..
মাহবুব টুটুল :
জন্ম ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০, নওগাঁ জেলার মান্দায়। বেড়ে ওঠা শৈশব-কৈশোর কেটেছে ছবির মতো দেখতে গ্রাম তেঁতুলিয়ায়।
লেখালেখি শুরু স্কুল জীবন থেকেই। দেশে ও দেশের বাহিরে অসংখ্য পত্রিকা আর বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ। ছাত্রজীবনে দৈনিক পত্রিকা করতোয়ায় সাংবাদিকতা করলেও পরবর্তীতে জীবনের অমোঘ বাস্তবতায় পেশা পরিবর্তন করে এখন শিক্ষক (বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া)।
বাবা মো কছিম উদ্দিন শেখ, মা মরহুমা ছামছুন্নাহার বেগম এর সাত সন্তানের মধ্যে অবস্থান ষষ্ঠ। বাবা বলতেন 'তুমি পৃথিবীতে কতদিন বেঁচে থাকবে এটা বড় বিষয় নয়, কিন্তু মৃত্যুর পরে কতদিন বেঁচে থাকবে এটাই বড় বিষয়।' কথাটি অন্তরে গেঁথে গিয়েছিলো। শিক্ষার প্রথম পাঠ শেষ হয় তেঁতুলিয়া ধনী বিবি উচ্চ বিদ্যালয়, মান্দা, নওগাঁ থেকে। রাজশাহী কলেজ রাজশাহী থেকে উচ্চমাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এমএসএস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, এমএড এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ (ইএলটি) সম্পন্ন হয়। শুভেচ্ছা সম্মাননা পেয়েছি 'চিহ্ন' (রাবি), 'অপরাজিত' (শেরপুর) এবং 'কবিতা সম্মাননা' (শব্দকথণ সাহিত্য আসর) থেকে।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি। বিকেলের বৃষ্টিতে চুল ভিজে মধ্যরাতে (যৌথ), জ্বলে জলে তিন নক্ষত্র (যৌথ), বাতাস ধুয়েছে শাড়ির আঁচল (একক)। ব্যক্তিগত জীবন সহধর্মিনী লায়লা নাজনীন ও সন্তান সৌহার্দ-তাহানী।