শিরোনাম: আমার ১১১১ দিন
বিষয়: আত্মজীবনী
লেখক/কবি: সালমা রহমান
প্রকাশক: খড়িমাটি
প্রচ্ছদ: মনিরুল মনির
সংস্করণ: ২০২২
পৃষ্ঠা: ৯৬
মূল্য: ২০০/-
দেশ: বাংলাদেশ
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-96690-4-3
জীবনের সোনালী রোদের কথা একা একা অনুধাবন করতে করতে মানুষ ক্রমশ মায়ার নিকটে যায়। মানুষে মানুষে যে সম্পর্ক তাতে পাপড়িগুলো স্মৃতির ভাঁজে পড়ে থাকে। হয়তো কখনো কখনো তা নিংড়ে বেরিয়ে পড়ে অসীম ভালবাসার টানে। এই এক অনন্য মায়া।
এ মায়া কুড়িয়ে-বাড়িয়ে সামলে রাখা যায়।
তেমনি সালমা রহমান গুটিয়ে রাখা জীবনকে তুলে ধরেছেন পাঠকের কাছে। নিজের অন্তর্গত চিত্রগুলো এই বইতে উল্লেখ করেছেন মমতা মেখে। আমার ১১১১ দিন বইয়ের আত্মপট পাঠকের কাছে ভিন্নতা পাবে।
.
মনিরুল মনির
কবি
.
সংসার, সন্তান সামলে সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে একটি মেয়ের আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠার এক অনবদ্য প্রকাশ আমার ১১১১ দিন বইটি। সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী, সৎ এবং দক্ষ শিক্ষক ও পরিচালকের এক মূর্ত প্রতীক সালমা রহমান। স্বল্পভাষী, সাহসী, অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী সালমা রহমানকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি খুবই ভালো ফলাফল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর কর্মজীবনের শুরুতেই বুঝেছিলাম ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে তিনি নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করে তুলতে সক্ষম হবেন। মাত্র তিন বছর সময়ে তিনি কঠিন পরিশ্রম করে খাজা আজমেরী স্কুলটাকে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সমগ্র চট্টগ্রাম শহরে স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা, ধৈর্য, সৎ সাহস সকলকে মুগ্ধ করেছে। সততা তাঁর চরিত্রের বড়ো অলংকার। ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা, বঞ্চনা, অপ্রাপ্তি কিছুই তাঁর কর্মজীবনকে স্পর্শ করেনি। অনুভব করেননি অভাব, অভিযোগ এবং কষ্ট। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটি সবমহলে ছিল ঈর্ষণীয় গ্রহণযোগ্যতা। বাস্তবের কঠিন আগুনে পুড়ে হয়েছেন খাঁটি সোনা। বইটির প্রতি অধ্যায়ের বিষয় বৈচিত্র পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করবে। ব্যক্তি জীবনের হাহাকার, ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, সর্বোপরি খাজা আজমেরী স্কুলের প্রতি গভীর মমতার বর্ণণা পাওয়া যাবে বইটির নানা অধ্যায়ে। রয়েছে সুকৌশলে ছেলেধরা গ্রেপ্তারের শ্বাসরুদ্ধকর কিছু সময়ের আখ্যান। মাতৃত্বের দহন ও সন্তানহারা মায়ের আর্তনাদ পাঠককে নিয়ে যাবে এক মধুময় সম্পর্কের নিগূঢ়ে। অগ্নিপথে হেঁটে তিনি পৌঁছে গেছেন সর্বোচ্চ সম্মানের চাকরি বিসিএস ক্যাডারে। পাঠক বইটিতে খুঁজে পাবে জীবন যুদ্ধের নান্দনিক বর্ণনা, যা প্রতিটি মানুষকে পথ চলতে সাহায্য করবে।
'সীমার মাঝে অসীম'- কথাটি সালমা রহমানের জন্য খুবই প্রযোজ্য। বয়সের সীমাবদ্ধতা, অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা জয় করে তিনি সীমাহীন গ্রহণযোগ্যতা আর শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এমন সফল ব্যক্তিত্ব সচরাচর দেখা যায় না। কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের যুগপৎ বর্ণনায় আমার ১১১১ দিন বইটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি অন্যদের জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবার ক্ষেত্রে বইটি পথ দেখাবে, অনুপ্রেরণা যোগাবে। বইটি পাঠক মহলে সমাদৃত হোক। লেখকের সার্বিক উন্নতি কামনা করি।
.
রফিক আহমেদ
চিফ এক্সিকিউটিভ
মমতা
.
সালমা রহমান:
১৯৬৪ সালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার হিজলাবট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক মরহুম হাফিজুর রহমান। মা মনোয়ারা বেগম।
শিক্ষা:
এসএসসি খান বাহাদুর আবদুল হক দোভাষ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। এইচএসসি চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ। বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস (অর্থনীতি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
পেশা:
১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক, খাজা আজমেরী কেজি এন্ড হাইস্কুল, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
১৯৯০ সালে অধ্যক্ষ, খাজা আজমেরী কেজি এন্ড হাইস্কুল, অগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার।
১৯৯৩ সালে প্রভাষক, পটিয়া সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।
২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।
২০০৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।
২০০৮ সালের আগস্টে বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।
২০১৮ সালে অধ্যাপক, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা। (সংযুক্ত। চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ)
২০২১ সালে নভেম্বর হতে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন।
সামাজিক কাজ:
আজীবন সদস্য- বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্ক।
আজীবন সদস্য এলামনাই এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়।
আজীবন সদস্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।
কো-চেয়ারম্যান জান্নাত ফাউন্ডেশন (দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সহায়তা ও বৃদ্ধ মহিলাদের সহায়তা)।
উপদেষ্টা: নারীকণ্ঠ, মাসিক ম্যাগাজিন।
সদস্য সচিব: প্রাক্তণ ছাত্রী পরিষদ, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ।
লেখালেখি: ১৯৯০ সাল থেকে কয়েক বছর দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশিত (শিক্ষা ও অর্থনীতি বিষয়ক)। এছাড়া দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকা, কলেজ ম্যাগাজিনে অনেক লেখা প্রকাশিত।
পরিবার:
স্বামী মরহুম নুর মোহাম্মদ চৌধুরী ব্যবসায়ী ছিলেন (ওহায়েদপুর ইউনিয়ন, মিরসরাই)। মেয়ে ফেরদৌস আরা, ডেপুটি ম্যানেজার (মিডিয়া), জিপিএইচ-এ কর্মরত, ইংরেজি সংবাদ পাঠক (বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম, কেন্দ্র)। ছেলে মনিরুজ্জামান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এমবিএ (মার্কেটিং) তে অধ্যয়নরত।