অদম্য এক মনোয়ার হোসেন বিষয় : সম্মাননা গ্রন্থ লেখক : শাহরিয়ার খালেদ সম্পাদিত প্রচ্ছদ : উত্তম সেন সংস্করণ : দ্বিতীয় প্রকাশ এপ্রিল ২০২৩ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪১৬ দেশ : বাংলাদেশ ভাষা : বাংলা ISBN : 978-984-96690-0-5
ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন অদম্য এক মানুষ উদীয়মান সূর্যের ঝলক নির্ধারণ করে দিয়েছিলো ভবিতব্য। যা রীতিসিদ্ধ, যা স্বাভাবিক তাই-ই পরবর্তীকালে সত্য হয়েছিলো, তেজস্বী কিশোরটির জীবনে। চট্টগ্রাম সরকারি নাসিরাবাদ স্কুলের ক্ষুরের মতো ধারালো সেই ছাত্র, ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে উত্তরণের সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে রূপান্তরিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে। তিনি ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন। ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন মানে এক গৌরবজনক অধ্যায়ের নাম। বর্ণাঢ্য ও বহুমাত্রিক। তাঁর জীবন হলো কৃত্যের অফুরান আলোকরশ্মি। নিরপেক্ষ ও অনমনীয়। নিরন্তর কর্মযোগে বৃত। আর সাফল্যের উত্তুঙ্গ শিখরে উত্তীর্ণ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও লীলাভূমি গিরি-বন-নির্ঝরিণী সমৃদ্ধ ছায়াশীল এই শৈল- শহর চট্টগ্রামে জাত ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের জন্ম-বেড়ে ওঠা ও নিজেকে নির্মাণ। গড়পড়তা বাঙালির চেয়ে উজ্জ্বল গৌরবর্ণের অধিকারী, শালপ্রাংশু দেহাবয়বধারী, মেধাবী মনোয়ারের জন্ম উচ্চশিক্ষিত-এক বনেদি পরিবারে। পিতা ডা. মোহাম্মদ নূরুল হুদা ছিলেন নগরের স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর রত্নগর্ভা জননী সৈয়দা আকতার জাহান একজন গৃহিণী। স্কুলজীবনে তাঁর নেতৃত্বের বিকাশ হতে থাকে। চট্টগ্রামের বনেদি স্কুল নাসিরাবাদ বয়েজ হাই স্কুলের সাধারণ ছাত্রদের ভোটে তিনি ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন তিনি ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তখন ওই শিক্ষায়তনের ছাত্রদের নেতৃত্ব বিকাশে বিবিধ কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতো; যেমন: অ্যাসেম্বলিতে প্রতিসপ্তাহে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বক্তব্য প্রদান। ভবিষ্যতের অনলবর্ষী বক্তার অনুশীলনপর্যায় ছিলো মূলজীবনের ওই কর্মসূচি। পুরস্কৃত হয়েছিলেন রবীন্দ্র-নজরুল-সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করে। তখন ৬০-এর দশকের শেষের দিক। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক উত্তাল অগ্নিগর্ভ সময়। জাতীয় রাজনীতির অভিঘাত এবং স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের জোয়ার পৌঁছে গিয়েছিল স্কুলপর্যায়েও। ব্যারিস্টার মনোয়ার বিভিন্ন মিছিল মিটিং ধর্মঘট আন্দোলনে ছিলেন সক্রিয় যোদ্ধা। জ্বালাময়ী বক্তৃতায় শ্রোতাকুলকে সম্মোহিত করার দুর্লভ ক্ষমতা অর্জনের ট্রায়াল তখনই সম্পাদিত হয়েছিলো। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়-পর্বে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার ছিনিয়ে আনেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলেন। ভর্তি হলেন চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজে। সময়টা ছিলো ৭৫-পরবর্তী জিয়ার সামরিক দুঃশাসন। রাজপথকে আলিঙ্গন করে নিলেন মনোয়ার। 'বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে'র একজন সর্বাত্মক কর্মী ও পরবর্তীকালে নেতা হিসেবে সকল মহলের মন জয় করলেন। নেতৃত্ব দেয়ার সহজাত গুণ ব্যারিস্টার মনোয়ারের মজ্জাগত। সুন্নিগ্ধ ও সুস্মিত ব্যক্তিত্ব, সংবেদনশীল মন, প্রজ্ঞা-পারমিতার অসাধারণ সমন্বয় তাঁকে জনস্রোতে বা জনসমাবেশে একক এবং স্বতন্ত্র- সকলের চেয়ে আলাদা বা বিশেষ হিসেবে চিহ্নিত করতো। মার্কসবাদে দীক্ষা নেওয়া মনোয়ার শ্রেণিবিভেদহীন সর্বহারার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে, একজন ত্যাগী ও নিরলস পার্টিজন-রূপে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ছাত্রসমাজকে 'বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নে'র পতাকাতলে শামিল করার এক দুর্দমনীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। কেবল শহর চট্টগ্রাম নয়; চট্টগ্রাম জেলার সমস্ত উপজেলা থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাম-গ্রামান্তরে প্রগতির লাল ঝান্ডা বহন করে বৈষম্যহীন এক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পর, তিনি বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক জনকল্যাণমুখী স্থায়ী আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেন। চট্টগ্রামের অভিশাপ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে, চাকতাই খাল খনন আন্দোলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। স্নাতকোত্তর-ডিগ্রি নেওয়ার পর আরো উন্নত শিক্ষা নেওয়ার জন্য তিনি পাড়ি দিলেন বিলেতে এবং ব্যারিস্টারি সনদ লাভ করলেন। স্থবির হয়ে বসে থাকার বান্দা নন ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন। লন্ডনে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মকাণ্ড শুরু করেন। আর তার গৌরবের মুকুটে যুক্ত হতে থাকে একেকটি সাফল্যের পালক। ব্যারিস্টার মনোয়ার আহমেদ শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিমনস্ক একজন রাজনীতিক। ছাত্র- জীবনে সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-এর একুশের সংকলন 'পদাতিক'-এর সঙ্গে। এ ছাড়া তিনি অনেক ম্যাগাজিন-সাময়িকী প্রকাশনার সাথেও ছিলেন সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রেখেছেন। পরোপকারী, বন্ধুবৎসল, সিংহহৃদয়ের অধিকারী ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন-এর জীবনের সামগ্রিক প্রতিভাস এই সংকলন।
‘বই কিনুন, বই উপহার দিন’ সেই পুরনো সেøাগান আজও খড়িমাটি ধ্যানে রেখেছে। ‘সম্পর্কের বন্ধনে বই’ এই প্রতিপাদ্যকে পালন করে যেতে চাই। খড়িমাটি বই প্রকাশের রুচিশীল প্রতিষ্ঠান। লেখার মান, উৎকৃষ্ট মুদ্রণ, যুৎসই বাঁধাই নিশ্চিত করে বই প্রকাশ করা হয়। সাহিত্যের বিস্তারে বহুদূর যেতে চায়। অথই চিন্তা নিয়ে যে সমাজ এগোয়, সেখানে অগ্রনী হয়ে থাকতে চায়। ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশনায় এই পর্যন্ত ৪০০ বইয়ের অধিক প্রকাশিত হয়েছে। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, গবেষণা, স্মৃতিকথা, নাটক, সিনেমা, চিঠিপত্র ও স্মারক-সম্মাননা গ্রন্থ বেরিয়েছে। দেশের ছাপাখানা ও প্রকাশনা শিল্পের অনন্য জায়গাটিকে সুদৃঢ় করতে আগ্রহী।