শিরোনাম: তবুও ক্রিকেট ভালোবাসি
বিষয়: ক্রিকেট
লেখক/কবি: বদরুল হুদা চৌধুরী
প্রকাশক: খড়িমাটি
প্রচ্ছদ: জরীপ আলী
সংস্করণ: ২০২২
পৃষ্ঠা: ১৪৪
মূল্য: ৩০০/-
দেশ: বাংলাদেশ
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-96690-7-4
ক্রিকেট নিয়ে ইদানীংকালে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। নানা কথা, নানা কল্পনা। জাতিগত বিপুল বিস্ময়ের এক জগৎ তৈরি হয়ে আছে। নিজেকে যত বেশি গতিশীল করে রাখা যায়। ক্রিকেটার এক দেবরূপ। তার এক সেরা হবার প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা ক্রীড়ার প্রধান ধারা। একাল-সেকালের রাজনৈতিক পরিক্রমায় বিশ্বে ক্রিকেট প্রবাহ উল্লেখ্য হয়ে আছে।
স্বাধীনতা পূর্বকালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভাবনার বাইরে এই অন্যরকম পাকিস্তানের ক্রিকেট ময়দান। যেখানে জাতিগত লড়াই থেকে দর্শন-মনোবল সচেষ্ট থেকেছে। জয়-পরাজয়ে দোলাচলে উত্তেজনা প্রকট হয়ে উঠেছে।
বদরুল হুদা চৌধুরী ছিলেন সাংবাদিক ও ক্রিকেটের অনন্য ধারাভাষ্যকার। আজ পৃথিবীব্যাপী ক্রীড়া ধারাভাষ্য সমাদৃত। যা জনপ্রিয় করে তুলেছে ক্রিকেটকে। ক্রীড়ার প্রতি অন্তর্গত পাঠ ও অভিজ্ঞতা থেকে বদরুল হুদা চৌধুরী লিখেছেন তবু ক্রিকেট ভালবাসি। এটি একটি মৌলিক বই।
ক্রিকেট সম্পর্কিত এক শিল্পচিন্তার মার্জিনে লিখেছেন খেলার ব্যবস্থাপনার কিছু কথা। এতে তৎকালীন ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা পাঠক হিসেবে আমাদের কৌতূহল উদ্দীপক করে তুলে।
১৯৬৬ সালে রচিত বইটিতে সংগত কারণেই তদানীন্তন 'পূর্ব পাকিস্তানে'র প্রেক্ষাপটে এসেছে। তবুও মনোযোগী পাঠক খেয়াল করবেন যে প্রচ্ছন্নভাবে অনাগত বাংলাদেশের ক্রিকেটটিও যেনো তাঁর স্বপ্নে ধরা দিয়েছিল।
এই বইয়ের নামকরণের 'ভালবাসি' বানানের আদিরূপ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যাতে প্রচ্ছদ ও বইয়ের আদি অবস্থার সাথে এখনকার পাঠক পরিচয় ঘটে।
ক্রিকেট নিয়ে বাংলা বইয়ের সংখ্যা খুব কম। এই বইটি একসময়ের ক্রিকেট ইতিহাস ও সময়কে ধারণ করে আছে। তাই এই বই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি বইটি সকলকে আনন্দ দেবে।
.
মনিরুল মনির
কবি
.
বদরুল হুদা চৌধুরী:
১৯৩০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সোনাপাহাড় গ্রামে জন্ম হয় কৃতি পুরুষ বদরুল হুদা চৌধুরী'র। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আইন বিষয়ে পড়েছিলেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের দৈনিক আজাদ পত্রিকায় সহ সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা রেডিওতে সংবাদ পাঠও করতেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান বনাম এম.সি.সি'র খেলার বাংলা ধারাভাষ্য প্রদানের মাধ্যমে ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন, যদিও ১৯৬৩ সাল থেকেই ধারা বর্ণনায় তাঁর যাত্রা শুরু।
ঢাকায় তিন বছর চাকুরি করে তিনি চট্টগ্রামে থিতু হন। অবশ্য তাঁকে ধারাভাষ্য ও সংবাদপাঠের জন্য প্রায়শই চট্টগ্রাম-ঢাকা করতে হতো।
উল্লেখ্য, ১৯৫২'র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।
১৯৬৮ সালে তিনি চট্টগ্রামে বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী সংসদ গঠন করেন। ২০০৩ সাল থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ক্রীড়াভাষ্যকার হিসেবে তিনি আর সক্রিয় ছিলেন না, কিন্তু পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা আরো কিছুদিন চালিয়ে গেছেন। ২০০৫ এ তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট এই কীর্তিমান সংবাদিক, ক্রীড়ালেখক-ভাষ্যকার ও কলামিস্ট ৮৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।