শিরোনাম : অদৃশ্যের মরমী অর্গান
বিষয় : কাব্যগ্রন্থ
লেখক : ফাউজুল কবির
প্রকাশক : খড়িমাটি
প্রচ্ছদ : মনিরুল মনির
প্রথম সংস্করণ : ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৪৪
দেশ : বাংলাদেশ
ভাষা : বাংলা
ISBN : 978-984-8241-61-5
" আমার তর্জনী-শব্দদের উজ্জ্বলতা-শুদ্ধতম শব্দদের গভীর নিবিড়
ষড়যন্ত্র
এবং জোনাকিমন্ত্র
প্রজাপতি মগ্নতাকে
নির্দেশিত করে শুধু:
আমি তো একার ভেতরের বহুকণ্ঠ প্রলুব্ধতা ভালোবাসি
বহুবচনের--- কবি আমি
বাসি জীবনের কথা জানি
মৃত জীবনের স্মৃতি চিনি। জানি একটি পিপীলিকা মহত্তম সত্য অন্তর্গত সভ্রতাকে খুঁজে চলে অবিরাম- পিপীলিকাদের চেয়ে বড় কোনো কবি নাই এ সংসারে ঝিঁঝিদের চেয়ে---- গহীনের দর্শনিক নাই এ ভুবনে পাখিদের নাম আমি উচ্চারণ করি প্রাত্যহিক সন্দ্বীপনে ডানাদের পালকেরা গল্পে গল্পে আমাকে বাক্যের উমে রাখে।
আমার তর্জনী আকাশের প্রেম আর সমুদ্রের ঢেউ খুঁজে সব ঢেউ সোলেমানি কবুতর- ধবল জলের লীলা; অগ্নির অরণ্যে জন্মিয়াছি আমি দীর্ঘ তপস্যার শেষে অগ্নিকে পান করে বেঁচে থাকি আমি
সর্বত্র দহন-চতুর্দিকে দাই আমার তর্জনী অগ্নিকে নির্দেশ করে শুধু রাত্রি ও দিনের মূর্ত সমস্ত প্রহর বলো জয় হোক- বেঁচে থাকো আগুনের তন্ময়তা নিয়ে।"
.
ফাউজুল কবির
ফেব্রুয়ারি ২০২২
ফাউজুল কবির
কোনো সুশোভন পঙ্ক্তির পতাকা নির্মাণই হচ্ছে আমার আরাধ্য কাজ। জীবনকে ছেঁকে দেখবার অধীর বাসনা আমাকে দুর্দান্ত মাতাল রাখে সর্বক্ষণ। স্বপ্নশব্দবোধ এবং আশ্চর্য বাস্তবের রক্তমাংসের বেদনা-আনন্দ আমাকে নিয়েই খেলা করে প্রাত্যহিক- সে খেলার নাম কাব্য।' ফাউজুল কবির নিজের সম্পর্কে নিজের জবানে এরকম বার্তাই দেন আমাদে।
ফাউজুল কবির জন্মগ্রহণ করেছেন ০৭ আগস্ট ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে। পিতা: আহমেদ ছোবহান, মাতা দেলাফরোজ খানম (উভয়েই প্রয়াত)।
জন্মস্থান: চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার উত্তর ইছাখালী গ্রামে। বর্তমান গ্রাম ৭ নম্বর কাটাছরা ইউনিয়নের তেমুহানী। লেখাপড়া করেছেন আবুরহাট উচ্চবিদ্যালয়, ফেনী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) সহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮০ খ্রিস্টাব্দের ০৩ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ০৬ আগস্ট পর্যন্ত কলেজে অধ্যাপনায় যুক্ত ছিলেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নিজেকেই সমর্পিত রেখেছেন সারাজীবন।
ফাউজুল কবির তার কবিতাকর্মের উজ্জ্বল অবস্থানের জন্য ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের কবি সাহিত্যিক, নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক সুধীজনদের পক্ষ থেকে তার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে 'রাঙাও প্রাণের পরাণের রঙে' শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে কবিতার জন্য পেয়েছেন 'মিরসরাই এসোসিয়েশন সম্মাননা'। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে পেয়েছেন 'মনন সাহিত্য সম্মাননা'। চিন্তা মনন ও সৃজনশীলতায় তিনি এক পৃথক সত্তা অর্জন করেছেন।
ফাউজুল কবির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধখ্যাত চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
কবিতাশিল্পের জন্য তিনি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন- এর 'একুশে সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।