পরিবেশ-অর্থনীতি-সামাজিক অসঙ্গতির গতি-প্রকৃতি (২০২৩)
বিষয়: প্রবন্ধ
লেখক: ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
প্রচ্ছদ: মনিরুল মনির
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-96840-3-9
হত দরিদ্র-দরিদ্র-নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত ক্রমানুসারে বিশ্বায়নের লুম্পেন ভোগবাদী বাণিজ্যের আগ্রাসন থেকে নারী-পুরুষ-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে কেউ মুক্ত থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়ত নবতর সংস্করণে শিশু-কিশোর অপরাধ, মাদকের প্রকরণে ভয়ানক পরিবর্তনশীলতা, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নানামুখী সংকট মোকাবেলায় প্রকৃত অর্থেই সমগ্র জাতিরাষ্ট্র প্রায় পর্যুদস্ত। স্বল্পোন্নত দেশের গন্ডী পেরিয়ে উন্নত বিশ্বের মহাসড়কে দেশের যাত্রাপথে পরিশুদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনে অপাংক্তেয়-অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত ঘটনা অন্তরায়- প্রতিবন্ধকতার প্রতিনিয়ত দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণ পরিলক্ষিত।
একটি দেশের গতিপ্রকৃতিকে স্বাভাবিক ধারায় প্রবাহিত করার লক্ষ্যে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে পরিপুষ্ট উদ্যমী-কর্মঠ-দক্ষ-যোগ্য কর্মবীরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দক্ষ কর্মবীর তৈরি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সরকারের প্রস্তাবিত উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আদর্শ-উদ্যমী কর্মবীর সৃষ্টিতে অবশ্যই অবদান রাখবে। মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে মেধার বিকাশ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ উৎপাদন ব্যাহত হবে। মূলত মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ তৈরিতে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক গুনগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
'পরিবেশ-অর্থনীতি-সামাজিক অসঙ্গতির গতি- প্রকৃতি' শিরোনামে গ্রন্থটির নিবন্ধ সমূহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত। পাঠকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী দেশে-বিদেশে একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক, গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে সুপরিচিত। ১৯৫৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১০ নং ওয়ার্ড উত্তর কাট্টলী হযরত আমানত উল্লাহ শাহ সড়কস্থ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। জাপান সরকারের বৃত্তির অধীনে সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনের পর পরই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম খ্যাতিশীর্ষ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি (বার্কেলে) সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পোস্ট ডক্টরাল উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ইফতেখারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (১৫.০৬.২০১৫ - ১৪.০৬.২০১৯), উপ-উপাচার্য (৩১.০৫.২০১৩ - ১৫.০৬.২০১৫), সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন। তিনি বিশ্বশীর্ষ যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় (কার্বনডেইল) ও বিনহামটং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুলব্রাইট সিনিয়র ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রফেসর ইফতেখার ইংল্যান্ডের গ্লাসগো, ডেনমার্কের অলবর্গ, জাপানের সুকুবা-ওসাকা সিটি-কোবে গাকুইন ও রিওককু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা এবং বহু আন্তর্জাতিক সংস্থায় গবেষক ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন, একাডেমিক ও তত্ত্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেশী ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রায় ৩০টির মতো মৌলিক প্রবন্ধ প্রকাশ ছিল প্রফেসর ইফতেখারের অনবদ্য অবদান। বাংলা, ইংরেজি ও জাপানী ভাষায় ইতিমধ্যে প্রকাশিত প্রফেসর ইফতেখারের বইগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু মহান একুশে ও মুক্তিযুদ্ধ, মাঙ্গলিক পদ্মা সেতু উন্নয়নের নবদিগন্ত, বাঙ্গালির বঙ্গবন্ধু বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিব, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আস্থার অবিচল ঠিকানা, দলিত ও জাতি-বর্ণ বৈষম্য: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ (দ্বিতীয় সংস্করণ), Village Phone (Japanese Version), Caste Based Discrimination in South Asia: A Study of Bangladesh (English Version), দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি-বর্ণ বৈষম্য: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ: প্রাসঙ্গিক সমাজ চিন্তা। উল্লেখ্য যে ২০১৭ সালে প্রকাশিত 'দলিত ও জাতি বর্ণ-বৈষম্যঃ পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ (দ্বিতীয় সংস্করণ)' গবেষণালব্ধ বইটির জন্য তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের স্বর্ণপদক পুরস্কারে ভূষিত হন। গবেষণা কাজের স্বীকৃতি ও সার্বিক বিষয়ে অসামান্য অবদানের জন্য প্রফেসর ইফতেখার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। চবি উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সাইন্স বিভাগ, ওশনোগ্রাফি বিভাগ, ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিমিনোলজি এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলছেন। এছাড়াও বেশকিছু স্কুল, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্য প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করে একজন প্রথিত শিক্ষাবিদ ও সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সুপ্রতিষ্ঠিত। সমসাময়িক বিষয়, বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক সমকাল, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক কালের কণ্ঠ, দৈনিক ইত্তেফাক, প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, বিবিধ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থ-সামাজিক-উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ গ্রন্থে বিপুল সংখ্যক নিবন্ধ উপস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পত্রিকার মধ্যে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ ও দৈনিক পূর্বদেশে তাঁর শতাধিক নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে।
যে-কোন জাতিরাষ্ট্রে সাধারণ জনগণের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রবহন বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন সঞ্চারণে প্রণিধানযোগ্য নিয়ামক। সঞ্চিত এই অর্থ ঋণ স্বরূপ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাংকের মুনাফা এবং শিল্পায়ন সমৃদ্ধির গতিময়তা-ব্যাপকতা পেয়ে থাকে। বিপুল কর্মসংস্থানের উৎকৃষ্ট মাধ্যম হিসেবে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। শিল্পবিপ্লব থেকে শুরু করে সমকালীন সময় পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই সর্বত্র কার্যকর ও সমাদৃত। সমাজ সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় দীর্ঘকাল প্রচলিত হস্তচালিত শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রশিল্পে রূপান্তরিত করে অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠী ও বিভাজিত শ্রমনির্ভর উৎপাদন কৌশলের মিথস্ক্রিয়া বিশ্বকে বর্তমান অবস্থানে উন্নীত করেছে। আমরা জানি আধুনিক উদ্ভাবনী পন্থায় শিল্পায়নের সর্বোত্তম পরিচিতির মোড়কে সম"দ্ধ হয়েছে পরিকল্পিত শহর-নগরসংস্কৃতির বিকাশ। নতুন যন্ত্রকৌশলের পর্যাপ্ত যৌক্তিক ব্যবহার-অধিকমাত্রায় পুঁজি বিনিয়োগ-শিল্পোৎপাদনে বৈজ্ঞানিক উপায়-প্রমিত ও বৃহদায়তন পণ্য উৎপাদনে শ্রমদক্ষতার প্রমুদিত অধ্যায় যুগ পরিবর্তনের কীর্তিত দৃষ্টান্ত। মূলত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক উন্নয়নে সমাজ-ধনবিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গসমূহের প্রয়োগ প্রক্রিয়ার উৎকর্ষকতা কল্যাণমুখী মানবিক সমাজ বিনির্মাণে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। অনগ্রসর থেকে প্রাগ্রসর সমাজে পরিণত হওয়ার পটভূমিতে রয়েছে শিল্প-নগরায়নের শক্তিমান সৃজনশীলতার ব্যাপক প্রভাব। ক্ষুদ্রায়তনের জনঅধ্যূষিত বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিগত কয়েক দশক শ্রমঘন শিল্পের প্রসার এবং গুনগত মানসম্মত উৎপাদিত পণ্যের বিতরণ-বাণিজ্যিকীকরণ দেশের রাজস্বখাতের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে অসাধারণ পরিতোষ নির্মাণে অনবদ্য ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। এরই আলোকে দেশে শিল্পঋণ বিতরণ-ব্যবহার-অতিরঞ্জিত প্রতারণা-চিহ্নিত মাফিয়া চক্রের সিন্ডিকেট কর্তৃক ঋণগ্রহণে যথেচ্ছাচার-অপকৌশলে বিদেশে অর্থপাচার দেশকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী করে চলছে।
সচেতন মহল সম্যক অবগত আছেন, দেশে জীবন-জীবিকার দোদুল্যমানতায় মনুষ্যত্ব-মানবতার বিরামহীন শূন্যতায় অরাজক পরিবেশে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস চরম দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হচ্ছে। হত দরিদ্র-দরিদ্র-নি¤œবিত্ত-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত ক্রমানুসারে বিশ্বায়নের লুম্পেন ভোগবাদী বাণিজ্যের আগ্রাসন থেকে নারী-পুরুষ-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে কেউ মুক্ত থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়ত নবতর সংস্করণে শিশু-কিশোর অপরাধ, মাদকের প্রকরণে ভয়ানক পরিবর্তনশীলতা, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নানামুখী সংকট মোকাবেলায় প্রকৃত অর্থেই সমগ্র জাতিরাষ্ট্র প্রায় পর্যুদস্ত। স্বল্পোন্নত দেশের গন্ডী পেরিয়ে উন্নত বিশ্বের মহাসড়কে দেশের যাত্রাপথে পরিশুদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনে অপাংক্তেয়-অনাকাক্সিক্ষত-অনভিপ্রেত ঘটনা অন্তরায়-প্রতিবন্ধকতার প্রতিনিয়ত দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণ পরিলক্ষিত।