আমার শিক্ষা ও শিক্ষক জীবন: অবিশ্বাস্য কিছু অভিজ্ঞতা (২০২৫)
বিষয়: স্মৃতিকথা
লেখক: ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী
প্রচ্ছদ: মনিরুল মনির
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪৮
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-97982-2-4
গ্রাম্য সাদাসিদে এক যুবক। এসএসসি পাশ করার পর সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম শহরে এলেন। এইচএসসি পাশ করার পর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। কিন্তু এ যুবক ঢাকায় টিকতে পারবেন না, এ আশংকায় তার পিতা তাকে ঢাকা যেতে নিষেধ করলেন। বাধ্য হয়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার ডিগ্রি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন।
তিন বৎসর পর জার্মান সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে জার্মানিতে যান। নানা বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে 'খুব ভালো' শ্রেণীসহ (প্রথম শ্রেণীর তুল্য) ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করলেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাপানে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং জার্মানিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট গবেষণা করলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকালীন তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব সুনামের সাথে সম্পন্ন করেন। একইসাথে বিভিন্ন স্তরে বহু পুস্তক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।
সবশেষে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক যুগ সুনামের সাথে উপাচার্যের পদ অলংকৃত করেন। অতি সাধারণ অবস্থা হতে ধাপে ধাপে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পদে উন্নীত হওয়ার কাহিনী এ পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে।
.
সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী
১৯৪৭ সনের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার ডিগ্রি অর্জনের কয়েকদিন পরেই ১৯৭০ সনের ১৫ মে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭৩ সনে উচ্চ শিক্ষার্থে জার্মানি গমন করেন। ভারত উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশের মাস্টার ডিগ্রি জার্মানিতে স্বীকৃত নয়। তাই এ সকল দেশের মাস্টার ডিগ্রিধারীদের ৭-৮ বছর পড়াশোনা করে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। কিন্তু সরোজ হাজারী বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে বিশেষ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন এবং তার ফলাফলের ভিত্তিতে সরাসরি ডক্টরেট কোর্সে ভর্তি হন। আড়াই বৎসরে 'খুব ভালো' ক্যাটাগরিতে (১ম শ্রেণির তুল্য) ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
জার্মানি হতে ফিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাকর্মে নিয়োজিত হন। অনেক M.Sc, M.Phil ও Ph.D ছাত্রদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেন।
পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডের Exeter Universityতে এক বৎসর। জাপানের Tokyo Institute of Technology তে ছয় মাস, জার্মানির Hamburg University তে তিনবার ও জার্মানির Friedrich-Schiller University, Jena তে একবার পোস্ট ডক্টরেল গবেষণা করেন।
গবেষণা কর্ম ছাড়াও পুস্তক রচনায় তিনি অবদান রেখেছেন। তিনিই প্রথমে বাংলা ভাষায় উচ্চস্তরে সাফল্যজনকভাবে অনেক পুস্তক রচনা করেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পুস্তক রচনা করেন।
১৯৮২ হতে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিন বৎসর তিনি রসায়ন বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের শিক্ষক থাকাকালীন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জার্মান ভাষা শিক্ষক ছিলেন।
২০১৩ সনের ১ জুলাই তিনি অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।
২০০৯ সনের ১৭ মার্চ বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে আরো দুই মেয়াদে উপাচার্যের পদে নিয়োগ পান।
দেশ ভ্রমণ তার শখ। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, সুইডেনসহ প্রায় ৩০টি দেশে ভ্রমণ করেছেন।