বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য পদের দিনগুলো (২০২৫)
বিষয়: স্মৃতিকথা
লেখক: ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী
প্রচ্ছদ: মনিরুল মনির
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২
ভাষা: বাংলা
আইএসবিএন: 978-984-99974-8-1
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-পদের অফার পেলেন। কিন্তু তাঁর সকল শুভানুধ্যায়ী এ পদ গ্রহণের বিরুদ্ধে। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে তিনি প্রফেসর গবেষণা ও পুস্তক রচনার ক্ষেত্রে খুব নাম করেছেন। এ পদ গ্রহণ করলে সে-কাজগুলোর ক্ষেত্রে আর অবদান রাখা যাবে না। তার চেয়েও বড়ো কথা সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা খুব খারাপ কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
অন্যান্য সূত্র হতেও এ-বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একই মন্তব্য শোনা গেল।
কিন্তু প্রফেসর ইতোমধ্যে মনস্থির করেছেন এ অফার গ্রহণ করবেন। অন্তত ছয় মাস অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। পছন্দ না হলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত যাবেন।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পূর্ব হতে নির্দিষ্ট করা নিয়মকানুন মেনে সব কাজ করতেন; এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রধান-কর্মকর্তা ও প্রায়-স্বাধীন। শিশুরা একটু স্বাধীনতা পেলে তার খেলনা-সহ সবকিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে; তেমনি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়মকানুন ওলটপালট করেন। তারপরেও তিনি এক যুগ উপাচার্য পদে ছিলেন-কীভাবে?
এই বই উপাচার্যের স্মৃতিসম্ভার।
..
সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী :
১৯৪৭ সনের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার ডিগ্রি অর্জনের কয়েকদিন পরেই ১৯৭০ সনের ১৫ মে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭৩ সনে উচ্চ শিক্ষার্থে জার্মানি গমন করেন। ভারত উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশের মাস্টার ডিগ্রি জার্মানিতে স্বীকৃত নয়। তাই এ সকল দেশের মাস্টার ডিগ্রিধারীদের ৭-৮ বছর পড়াশোনা করে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। কিন্তু সরোজ হাজারী বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে বিশেষ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন এবং তার ফলাফলের ভিত্তিতে সরাসরি ডক্টরেট কোর্সে ভর্তি হন। আড়াই বৎসরে 'খুব ভালো' ক্যাটাগরিতে (১ম শ্রেণির তুল্য) ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
জার্মানি হতে ফিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাকর্মে নিয়োজিত হন। অনেক M.Sc, M.Phil ও Ph.D ছাত্রদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেন।
পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডের Exeter Universityতে এক বৎসর; জাপানের Tokyo Institute of Technology তে ছয় মাস, জার্মানির Hamburg Universityতে তিনবার ও জার্মানির Friedrich-Schiller University, Jena তে একবার পোস্ট ডক্টরেল গবেষণা করেন।
গবেষণা কর্ম ছাড়াও পুস্তক রচনায় তিনি অবদান রেখেছেন। তিনিই প্রথমে বাংলা ভাষায় উচ্চস্তরে সাফল্যজনকভাবে অনেক পুস্তক রচনা করেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পুস্তক রচনা করেন।
১৯৮২ হতে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিন বৎসর তিনি রসায়ন বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের শিক্ষক থাকাকালীন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জার্মান ভাষা শিক্ষক ছিলেন।
২০১৩ সনের ১ জুলাই তিনি অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।
২০০৯ সনের ১৭ মার্চ বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে আরো দুই মেয়াদে উপাচার্যের পদে নিয়োগ পান।
দেশ ভ্রমণ তার শখ। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, সুইডেনসহ প্রায় ৩০টি দেশে ভ্রমণ করেছেন।